Space for rent
Wednesday, 15 August, 2018, 3:32 AM
পেট্রাপোলে ধীর গতির কারণে ভারতে যাত্রী পারাপারে ভোগান্তি
Published : Wednesday, 6 September, 2017 Time : 5:20 PM, Count: 299
A+ A- A
বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে ঈদ পরবর্তী যাত্রী পারাপারে অতীতের সকল রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। ঈদের পর তিন দিনে ২৬ হাজার ৬৭৩ যাত্রী পারাপার  হয়েছে, যা অতীতে কখনো হয়নি বলে দাবি করেছেন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। ভারতের পেট্রাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টের ইমিগ্রেশনে জনবল কম থাকায় পাসপোর্টের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে কাজের ধীরগতির কারনে শুন্যরেখায় প্রতিদিন শতশত যাত্রী ভোগান্তির মুখে পড়ছেন। অনেকে বাংলাদেশ ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করার পর ভারতে ঢুকতে না পেরে ভ্রমন বাতিল করছেন।

এমনই একজন পুরানো ঢাকার এফ রহমান মন্টুর সাথে কথা হয় বুধবার।  তিনি বলেন, মঙ্গলবার সকালে বেনাপোল ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করার পরও বিকেল নাগাদ ভারতে ঢুকতে পারিনি। বাধ্য হয়ে পূনরায় ইমিগ্রেশনে এসে ওদিনের ভ্রমন বাতিল করি। আজও দেখছি একই অবস্থা তাই ঢাকা ফিরে যাচ্ছি।

এদিকে শুন্যরেখায়  আটকে থাকা বিপুল সংখ্যক যাত্রীকে সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন বিজিবি, পোর্ট থানা পুলিশ, আনসার ও ইমিগ্রেশন পুলিশ। মাঝে মাঝে তাদের মধ্যে অনাকাঙ্খিত ঘটনারও সৃষ্টি হচ্ছে।অন্যদিকে বিএসএফের হাতে প্রতিনিয়ত নাজেহাল হচ্ছেন ভারতগামী পাসপোর্টযাত্রী এমন অভিযোগ করেছেন শুন্যরেখায় সারিতে দাড়িয়ে থাকা যাত্রীরা। 

“আগে প্রতিদিন যেখানে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার যাত্রী পারাপার হতো এখন তা বেড়ে নয় থেকে দশ হাজারে দাড়িয়েছে” বলে বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের পরিদর্শক সোনিয়া আক্তার বলেন, যাত্রীদের চাপ থাকলেও আমরা দ্রুত আনুষ্ঠানিকতা শেষ করছি। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সেবা দিচ্ছি। ইমিগ্রেশনে ডেক্স বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু ভারতীয় ইমিগ্রেশন সেভাবে জনবল বাড়ায়নি।তাদের ধীর গতির কারনে শুন্যরেখায় যাত্রীজট বাড়ছে। বিষয়টি বারবার ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে বলার পরেও কোন সুরাহা হচ্ছে না। এতে যাত্রীদের অনেক ঝামেলা ও ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে।

সরেজমিন বেনাপোল চেকপোস্ট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ভারতীয় ইমিগ্রেশন কাস্টমস পার হয়ে নোম্যান্সল্যান্ডে চক্রাকৃতির দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন শতশত যাত্রী। ওই লাইন বেনাপোল কাস্টম ও ইমিগ্রেশনের ভবনের সামনে প্রধান সড়কের প্রায় এক কিলোমিটার দূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। প্রখর রোদ্রতাপ ও মাঝে মধ্যে বৃষ্টিতে ভিজতে হচ্ছে। এ অবস্থায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে ক্লান্ত হয়ে উঠছেন ভারত গমনেচ্ছুরা। রোগী, বৃদ্ধ ও শিশুদের কষ্টের শেষ নেই। খোলা আকাশের নিচে লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

ভারত ফেরত চট্রগামের নণী গোপাল রুদ্র বলেন, ভারতীয় হাইকমিশন ভিসা সহজীকরণ করেছেও বটে তবে পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনের কতিপয় কর্মকর্তার আচরণে সে সুবিধা ভেস্তে যেতে বসেছে।পাসপোর্টে ‘লাল সিল’ মেরে দেওয়ার হুমকির কারনে তাদের হয়রানীর প্রতিবাদ করতে পারি না।

বুধবার দুপুরে ভারত থেকে স্বপরিবারে ফিরেছেন নারায়নগঞ্জের বরুন কৃষনো রায়, স্ত্রী লক্ষীরানী রায় এবং ছেলে তন্ময় রায়।

ঈগল পরিবহনের কাউন্টারে কথা হয় তাদের সাথে। বরুন বলেন, বৈধ ভিসা নিয়ে বহুবার ওপারে গেছি কিন্তু এবারের মত নাজেহাল কখনো হয়নি। পেট্টাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ যাত্রীদের ছবি, নাম, ঠিকানা, ভিসা পাসপোর্টের সাথে মিলিয়ে দেখতেই বেশি সময় নিচ্ছেন। তাদের জনবল কম থাকায় যাত্রীদের লাইন দীর্ঘ হচ্ছে এতে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ছে।

বেনাপোল চেকপোষ্ট ইমিগ্রেশন ওসি (ভারপ্রাপ্ত) ফজলুর রহমান বলেন, ঈদের পর রোববার, সোমবার ও মঙ্গলবার তিন দিনে বেনাপোল দিয়ে ভারত গেছে ১৮ হাজার ৯৪৩ জন আর ফেরত এসেছে ৭ হাজার ৩৩০ জন যাত্রী। রোজার ঈদের আগে পরে যাত্রী পারাপার বেশি হলেও কোরবানির ঈদে কখনো এতো যাত্রী পারাপারের ঘটনা অতীতে ঘটেনি।

রিপোর্ট>> আসাদুজ্জামান আসাদ, বিশেষ প্রতিনিধি, এনআরবি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম, বেনাপোল থেকে


  




Editor : Faruk Syed
736 Carmella Cres. Ottawa, Ontario, K4A 4V8, Canada
Tel: 613 820 5537, nrbnews24@gmail.com, editor@nrbnews24.com