Space for rent
Monday, 21 May, 2018, 3:02 PM
টার্কি খামারে ভাগ্য বদলেছেন যশোরের জাহিদ পারভেজ রাজু
Published : Saturday, 16 December, 2017 Time : 2:18 AM, Count: 374
A+ A- A
আসাদুজ্জামান আসাদ, বিশেষ প্রতিনিধি, এনআরবি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম>>>
যশোরের শার্শা উপজেলার উচ্চ শিক্ষিত বেকার যুবক জাহিদ পারভেজ রাজু টার্কির খামার করে আজ খ্যাতির শীর্ষে উঠে এসেছেন। প্রতিদিন বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ক্রেতাদের কাছে টার্কি সরবরাহ করতে পেরে অতীতকে তিনি ভুলে সাফল্যের পথে এগিয়ে চলেছেন। 

শার্শা উপজেলার গিলেপোল গ্রামে এক বছর আগে রাজু গড়ে তোলেন টার্কির খামার। বিশ্ববিদ্যালয়ের লেখাপড়া শেষ করে রাজু একটি বিমান কোম্পানীতে চাকুরি জীবন শুরু করেন। কিন্তু বিমানটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সে চাকুরি আর টেকেনি। বছর খানেক আগে বেকারত্ব ঘুচাতে রাজু টার্কির খামার গড়ে তোলেন।

রাজু বলেন, প্রথমে দেড়’শ টাকা দরে ৬০০ ডিম কিনি। ওই ডিমের বাচ্চা ফুটানোর জন্য দেড়লাখ টাকা দিয়ে ইনকিউটেটর কিনে ডিম থেকে বাচ্চা ফুটানো শুরু করি। এরপর এর চাহিদা দেখে রাজুকে আর পিছনে তাকাতে হয়নি। রাজু বলেন, প্রতিটি একদিনের টার্কির বাচ্চা বিক্রি হচ্ছে তিন শত টাকায় আর এক মাসের বাচ্চার দাম ছয় শত টাকা। প্রতিদিন বিভিন্ন জেলা থেকে তার কাছে টার্কির বাচ্চা নেওয়ার জন্য আসছেন বলে জানান তিনি। বর্তমানে তার খামারে পূর্ণবয়স্ক টার্কি আছে ৭৫টি এবং একমাস বয়সের বাচ্চা আছে ২০০টি। ৬মাস বয়স হলেই টার্কি ডিম দেওয়া শুরু করে।
প্রতিটি টার্কি বছরে ১২০ থেকে ১৫০টি ডিম দিয়ে থাকে। এক বছরে সব খরচা বাদে তার লাভ হয়েছে ৬ লাখ টাকা বলে জানান রাজু। রাজু তার বাড়ির পাশে টার্কির খামারটি বাড়াতে নতুন করে ফার্ম তৈরিতে হাত দিয়েছেন পূর্ণবয়স্ক পাঁচশত টার্কি যেখানে রাখা যাবে। রাজু বলেন, এটি তৈরি হলে আর বাচ্চা কিনতে এসে লোকজন ফিরে যাবে না। প্রতি দিন বিভিন্ন এলাকা থেকে লোক আসে বাচ্চা কিনতে কিন্তু সবাইকে দিতে পারিনে। এটা আমাকে বড় পীড়া দেয় তাই নতুন করে ফার্মের পরিধি বাড়াচ্ছি।’

রাজুর দেখাদেখি আরও অনেকে ছোট ছোট খামার গড়ে তুলছেন। রাজুর খামার থেকে টার্কির বাচ্চা কিনে ঝিকরগাছার মাঠুয়াপাড়ার কামরুল ইসলাম, শিমুলিয়ার মনিরুজ্জামান বিল্লাল ও কামারপাড়ার আবু সাইদ তিন বন্ধু তিনটি খামার গড়ে তুলেছেন।

কামরুল এনআরবি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘টার্কি তৃণভোজি প্রাণী হওয়ায় এরা লতাপাতা ও ঘাস খায়। এদের রোগবালাইও কম। নতুন খামার তৈরি করেছি, টার্কির সংখ্যা বাড়াতে পারলে বেশি লাভ হতো কিন্তু অর্থ সংকটে এগুতে পারছি না। সরকারি সহযোগিতা পেলে খামারটি বড় করা সম্ভব হতো।’

মনিরুজ্জামান বিল্লাল বলেন, ‘রাজুর খামার থেকে ৩৬ দিনের ৩৮টি টার্কির বাচ্চা কিনে প্রথম খামার শুরু করি। দু’মাসের প্রতিটি বাচ্চার ওজন এখন আড়াই কেজি হয়েছে। ওদের জন্য দু’কাঠা জমিতে ঘাস লাগাইছি।’

শার্শা উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা জয়দেব কুমার সিংহ বলেন, রাজু টার্কির খামার করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তার খামারটি উপজেলার একমাত্র টার্কির খামার। লাভজনক হওয়ায় টার্কির খামারের প্রতি আরো অনেকেই আগ্রহী হচ্ছেন। এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি পুষ্টির চাহিদা পূরন হচ্ছে। পূর্ণ বয়স্ক একটি টার্কিতে ১০ থেকে ১২ কেজি মাংশ পাওয়া যায়। এই মাংশ খুব সুস্বাদু হওয়ায় বাজারে তার ব্যপক চাহিদা রয়েছে বলেন জয়দেব।



Editor : Faruk Syed
736 Carmella Cres. Ottawa, Ontario, K4A 4V8, Canada
Tel: 613 820 5537, nrbnews24@gmail.com, editor@nrbnews24.com