Space for rent
Monday, 21 May, 2018, 2:55 PM
আগাম ‘কুল’ চাষে বদলে গেছে ৫শ যুবকের ভাগ্য
Published : Friday, 22 December, 2017 Time : 10:43 PM, Count: 313
A+ A- A
আসাদুজ্জামান আসাদ, বিশেষ প্রতিনিধি, এনআরবি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম, যশোর থেকেঃ অসময়ে কুল বাজারে পাঠিয়ে ভাগ্য বদলে ফেলেছেন যশোরের শার্শা উপজেলার খোরশেদ আলম, গোলাম আজম, লাল্টু গাজি ও শরিফুল ইসলামের মত পাঁচ শতাধিক যুবক।

নভেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ থেকেই ওদের কুল রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে যাচ্ছে অথচ ফেব্রুয়ারি মাস থেকে পুরোপুরি কুলের মৌসুম শুরু হয়।

শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হীরক কুমার সরকার এনআরবিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, শার্শায় এবার পাঁচ শতাধিক চাষি অন্তত এক হাজার বিঘা জমিতে কুলচাষ করেছেন।

“কুলচাষি খোরশেদ আলম ‘সাওন স্টক’ পদ্ধতিতে বাউকুলের কলম থেকে চারা করে কুল উঠার অন্তত চার মাস আগে কুল বাজারজাত করতে পেরেছেন। একই ভাবে উলাশির কাঠুরিয়া মাঠে খোরশেদের কাছ থেকে চারা নিয়ে জাহানারা বেগম ও শফিকুল ইসলামও অন্তত পাঁচ বিঘা জমিতে ওই কুল চাষ করেছেন।”

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) উদ্ভাবন করা আপেল কুল, বাউকুল ও ঢাকা-৯০ জাতের কুলসহ কয়েকটি জাতের চাষ করেন তারা। মাত্র চার মাসে লাখ টাকার ফলন দেখে জীবন বদলের স্বপ্ন দেখছেন।

সামটা গ্রামের খোদাবক্স মোড়লের ছেলে কৃষক খোরশেদ আলম (৫০) কুলচাষ করেই জীবন-জীবিকার অভাবনীয় উন্নয়ন ঘটিয়েছেন, যা অন্যদের অনুপ্রাণিত করে। 

অল্প পুঁজি নিয়ে শুরু করে খোরশেদ আলম অনেককিছু করেছেন। একটি কুলবাগান থেকে করেছেন তিনটি। শার্শার নাভারন-সাতক্ষীরা সড়কের হাড়িখালি মোড়ে রয়েছে তার ‘বিমিল্লাহ ফলভান্ডার’। ৪৫জন কুলচাষি তার মাধ্যমে ঢাকা ও বরিশালে ফল পাঠাবেন বলে তার সাথে চুক্তি হয়েছে বলে জানান তিনি।

উলাশির কাঠুরিয়া মাঠে খোরশেদের কুল বাগান। গোটা বাগানজুড়ে বাউকুল, আপেলকুল ও নারকেলকুল ধরে আছে। ফলের ভারে স্বল্প উচ্চতার গাছগুলো নুইয়ে পড়ছে। 

বাউকুল পুরোপুরি পুষ্ট হয়ে গেছে, আকারও বেশ বড়।নভেম্বর মাসের মধ্যে তিন চালান কুল তিনি বাজারজাত করেছেন।জানুয়ারী মাসের শেষের দিকে এই বাউকুল বাজারে পাওয়ার কথা তবে নিজের নার্সারীতে বিশেষ পদ্ধতিতে চারা তৈরি করে তিন মাস আগেই কুল বাজারে পাঠাতে পেরেছেন তিনি।

খোরশেদ জানান,পুষ্ট হলে এগুলো সাদা হয়ে যাবে। অনেক কুল এখনও পুষ্ট হয়নি। সেগুলোর বর্ণ অনেকটা বাদামি ও খয়েরি রঙের মিশ্রণ।আর আপেলকুল,নারকেলকুল এখনও অপুষ্ট রয়ে গেছে।ফেব্রয়ারী মাস নাগাদ এসব কুল বাজারে যাবে। 

তিনি জানান, এ বছর ১০ বিঘা জমিতে কুল চাষ করেছেন। বর্তমানে তার বাগান রয়েছে তিনটি। বিগত ১২ বছর তিনি সফলভাবেই কুলের চাষ করে আসছেন। 

ভালো ফলনের জন্য নিয়মিত সেচ ও সার দিতে হয়। বাগান নিয়মিত পরিচর্যার জন্য ৬/৭ জন লোক রাখার পাশাপাশি ব্যাপক শ্রম দিতে হয়। 

বিঘা প্রতি সবমিলিয়ে খরচ পড়ে প্রায় ৩০/৩২ হাজার টাকা। আর ফলন পাওয়া যায় ৯০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা। 
এ বছর তার ১০ বিঘা জমিতে খরচ হয়েছে আড়াই লাখ টাকার কিছু বেশি। প্রথম বছর তাই খরচ একটু বেশি। দ্বিতীয় বছর থেকে খরচ অর্ধেকে নেমে আসবে। মৌসুম শেষে তিনি বিক্রি করে পাবেন ৮ লাখ টাকা। ৩/৪ লাখ টাকা তিনি লভ্যাংশ পাবেন বলে আশা করছেন। 

এ মৌসুমে ইতোমধ্যে ঢাকা ও বরিশালের ফলের আড়তে কুল পাঠানো শুরু করেছেন বলে জানান তিনি। 
বাগআচড়ার টেংরা মাঠে কথা হয় কুলচাষি গোলাম আজম, লাল্টু গাজি ও শরিফুল ইসলামের সঙ্গে। সেখানে গোলাম আজম গাছ থেকে কুল তোলার পর নিজেই গামছা দিয়ে কুলগুলো মুছে বাজারজাত করনের জন্য কার্টুন ভরছিল।

আজম বলেন,তিন বছর ধরে ১৫বিঘা জমিতে কুল চাষ করে আসছি।কুল চাষ করে সংসারে শান্তি ফিরেছে। প্রতি বিঘায় এক লাখ টাকার কুল বিক্রি করার আশা করছেন তিনি। 

প্রথম বছর নতুন বাগান করতে খরচ হয়েছিল সাড়ে তিন লাখ টাকা জানিয়ে আজম বলেন,আগামী পাঁচ বছর আর বড় কোনো খরচ নেই বাগানে। এখন বছর বছর শুধু টাকা আসবে। তাই তার এখন শুধু স্বপ্ন দেখার পালা।

শরিফুল ইসলাম বলেন,পাখি ও কীটপতঙ্গের উপদ্রব থেকে রক্ষার জন্য কুলের পুরো বাগানকে নেট দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে।পাশাপাশি কুলগুলিকে ব্যাগিং পদ্ধতিতে আটকিয়ে রাখা হয়েছে।এতে একটি কুল ও নষ্ট হবে না।

শরিফুল এনআরবিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এই মাঠে এবছর তিন বিঘা জমিতে কুল গাছ লাগাইছি।সপ্তায় ৪শ কেজি করে কুল পাচ্ছি। প্রতিকেজি কুল বিক্রি করছি ৭০/৮০ টাকায়।” 

প্রতি বিঘায় এক লাখ টাকার কুল বিক্রি করার আশা করছেন তিনি।

একই ভাবে বড়বাড়িয়া গ্রামের আব্দুল ওহাব ১৪বিঘা, বসতপুরের ওবায়দুল্যা ১৮বিঘা, জামতলার লাল্টু গাজী ৫বিঘা ও কবির হোসেন ৮বিঘা জমিতে কুল চাষ করেছে। লাভের ব্যাপারে তারাও আশাবাদি।





Editor : Faruk Syed
736 Carmella Cres. Ottawa, Ontario, K4A 4V8, Canada
Tel: 613 820 5537, nrbnews24@gmail.com, editor@nrbnews24.com