Space for rent
Tuesday, 12 November, 2019, 7:56 AM
৪ বছর পর ফের শুরু হচ্ছে পটুয়াখালীর লোহালিয়া সেতুর কাজ
Published : Friday, 5 July, 2019 Time : 5:12 PM, Count: 1330
A+ A- A
দীর্ঘ ৪ বছর বেশী সময় কাজ বন্ধ থাকার পর অবশেষে বহূল প্রতিক্ষিত পটুয়াখালীর লোহালিয়া নদীর উপর লোহালিয়া সেতুর নতুন ডিজাইনে কাজ শুরু হচ্ছে। জেলার ৩টি উপজেলার সাথে সরাসরি সড়ক পথে যোগাযোগ সৃষ্ঠির লক্ষে ২০১১-১২ অর্থ বছরে ৪৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকার বেশী ব্যয়ে ৪৬৪.৭৫ মিটার দীর্ঘ্য সেতু নির্মানের কাজ শুরু করা হলেও বিআইডব্লিউটিএর  আপত্তিতে দেশের তৃতীয় সমুদ্র বন্দর পায়রার নৌপথে সেতুর উচ্চতা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্ঠি করবে বলে সেতু নির্মান কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

সেতু নির্মানের শুরুতে বিআইডব্লিউটিএর নেভিগেশন ক্লিয়ারেন্স প্রত্যয়নপত্র অনুযায়ী জুন ২০১৩ এ সেতু নির্মান সমাপ্ত হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে সেতুর কাজ সমাপ্ত করা সম্ভব হয়নি। সেতুর ৫৪ ভাগ কাজ সম্পন্ন হওয়ার মধ্যে সরকারের গৃহীত মেগা প্রকল্প পায়রা বন্দরের পরিকল্পনা হাতে নেয়ায় পায়রা বন্দরের মালবাহী লাইটার জাহাজ চলাচলের পথ হিসেবে লোহালীয়া নদীর উপর নির্মানাধীন সেতুর উচ্চতা বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে বলে পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষকে তাদের আপত্তির কথা জানান। ২০১৪সালে বন্ধ হয়ে যায় লোহালিয়া সেতুর নির্মান কাজ।

আন্ত:মন্ত্রনালয়ের সভায় বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক জানান, পায়রা বন্দরের স্বার্থে নির্মানাধীন লোহালিয়া ব্রীজের বর্তমান ভার্টিকাল ক্লিয়ারেন্স নদীর মূল চ্যানেলে ৯.৪৭ মিটারের পরিবর্তে ১৮.৩০ মিটার এবং হরাইজেন্টাল ক্লিয়ারেন্স ৩৫ মিটার এর পরিবর্তে ৭৬.২০ মিটার রেখে সেতু নির্মান করতে হবে। সভায়  স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী জানান, নদীর মূল চ্যানেলে ১ টি স্প্যানের ভার্টিকাল ১২.২০ মিটার এবং হরাইজেন্টাল  ৭০ মিটার পর্যন্ত  ক্লিয়ারেন্স রেখে সেতুর কাজ বাস্তবায়ন সম্ভব কিন্তু ভার্টিকাল  ক্লিয়ারেন্স ১৮.৩০ মিটার এবং হরাইজেন্টাল ক্লিয়ারেন্স ৭৬.২০ মিটার রেখে ব্রীজের বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। বিআইডব্লিউটিএর কাংখিত চাহিদা পূরন করতে ব্রীজটি পরিত্যাক্ত ঘোষনা করে নতুনভাবে স্টাডি ও ডিজাইন করে ব্রীজ বাস্তবায়ন করতে হবে। সভায় সেতুর কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

পরবর্তীতে উভয় মন্ত্রনালয়ের একাধিক সভা অনুষ্ঠিত হয়, যৌথ সভায় সিদ্ধান্ত হয় নির্মানাধীন ব্রীজের ডিজাইন পরিবর্তন করার, নৌপথ চালু করতে সেতুর ডিজাইন পরিবর্তন করে ৪৬৪.৭৫ পরিবর্তে দৈর্ঘ্য বাড়িয়ে ৫৪৪ মিটার এবং স্প্যান সংখ্যা বাড়িয়ে ১১টির পরিবর্তে ১৩ টি করা হয়। ফেব্রুয়ারী ২০১৮ তে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ প্রধান প্রকৌশলী এলজিইডি বরাবরে পরিবর্তিত ডিজাইনের ৫৪৪ মিটার দীর্ঘ্য সেতুর ভার্টিক্যাল ক্লিয়ারেন্স স্ট্যান্ডর্ড হাই-ওয়াটার লেভেল হতে ১৩.৫০ মিটার এবং হরাইজেন্টাল ক্লিয়ারেন্স ৭০ মিটার রেখে সেতু নির্মানে তাদের কোন আপত্তি নেই বলে এক পত্রে জানান। পরবির্ততে এলজিইডি থেকে ২৮.১০.২০১৮ তে ১৩.৫ মিটার ভার্র্টিকাল ক্লিয়ারেন্স এবং ১০৭ মিটার হরাইজেন্টাল ক্লিয়ারেন্স রেখে নতুন ডিজাইনের সেতু নির্মানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। নতুন ডিজাইনের সেতুর  মাঝখানের ১০৭.২৫ মিটার অংশে স্টীল ট্রাস সেতু করা হবে এবং এটি আর্ন্তজাতিক টেন্ডার আহবান করা হয়েছে। বর্তমানে মূল সেতু, ট্রাস অংশ, জমি অধিগ্রহন এবং এপ্রোচ সড়ক সহ আনুমানিক ১০২ কোটি টাকা প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে বলে একটি সুত্র জানা গেছে।

এদিকে পটুয়াখালী জেলার ৪টি উপজেলার সাথে সংযোগ স্থাপনকারী লোহালিয়া সেতুর কাজ দীর্ঘ্য ৪ বছর বন্ধ থাকার ফলে পটুয়াখালীর লোহালিয়া খেয়া ঘাটে প্রতিদিন হাজার হাজার জনগনকে নিদারুন ভোগান্তির শিকার হতে হয়। লোহালিয়া খেয়াঘাট পার হলেই ৩০থেকে ৪০মিনিটের মধ্যে পাশ্ববর্তী তিনটি উপজেলায় সড়াসড়ি সড়ক পথে যোগাযোগ সম্ভব হবে। লোহালিয়া নদী সংলগ্ন পাশ্ববর্তী গলাচিপা উপজেলার কল্যান কলস ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান ফখরউদ্দিন খান জানান, প্রতিদিন তার এলাকাসহ পাশ্ববর্তী দশমিনা, বাউফল উপজেলার জনগনকে ভোগান্তীর শিকার হতে হচ্ছে। পটুয়াখালী আইনজীবী সমিতির সদস্য এ্যাডভোকেট আনোয়ার পারভেজ এ্যাডভোকেট বলেন, পেশাগত প্রয়োজনে আমাদের বিভিন্ন সময় উপজেলা গুলিতে যেতে হয়, সেক্ষেত্রে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনে লোহালিয়া নদীর উপর এ সেতুটির বিড়ম্বনা বড় ধরনের পীড়াদায়ক বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে, আমরা অতি দ্রুত এ সেতুটির সমাপ্তিকরণের মাধ্যমে সাধারন মানুষের ভোগান্তি নিরসনের দাবী জানাচ্ছি। এলজিইডি পটুয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী শরীফ জামালউদ্দিন জানান, ইতোমধ্যে লোহালিয়া সেতুর অসমাপ্ত ৫৭৬.২৫ মিটার অংশের টেন্ডার পক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে দরপত্র অনুমোদনের জন্য প্রধান প্রকৌশল বরাবরে পাঠানো হয়েছে। 

লোহালিয়া সেতুর প্রকল্প পরিচালক  মো: নুরুল হুদা জানান, ২০১৪ সালে বিআইডব্লিউটিএর আপত্তির পর পূর্বের ঠিকাদারের কাজ অসমাপ্ত অবস্থায় ২০১৫ সালে কার্যাদেশ বাতিল করা হয়। দুই মন্ত্রনালয়ের একাধিক সার্ভে টিমের কাজ ও সভার পর নতুন ডিজাইন অনুমোদন হয়। পরবর্তিতে ২০১৮ সালের সেপ্টম্বর মাসে একনেকের অনুমোদনের পরে নভেম্বর থেকে এলজিইডি টেন্ডার প্রক্রিয়াসহ অন্যান্য কাজ নতুন ডিজাইন অনুযায়ী শুরু করে। নতুন ডিজাইনের ডাবল লেন স্টীল ট্রাসস্থাপনের জন্য আর্ন্তজাতিক দরপত্র আহবান করা হয়েছিল, যার ওপেনিং ছিল ৩১ জানুয়ারী বর্তমানে টেন্ডার কার্যক্রম মূল্যায়ন চলছে। তিনি  আশাবাদ ব্যাক্ত করে বলেন বর্তমান সরকারের ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নের লক্ষে ২০২০ সালের মধ্যেই পটুয়াখালীর লোহালিয়া নদীর উপর নতুন ডিজাইনের সেতু উদ্বোধন করা সম্ভব হবে।

রিপোর্টঃ জাকির মাহমুদ সেলিম পটুয়াখালী থেকে













Editor in Chief: Omar Ali
356, East Rampura, Dhaka-1219, Bangladesh.
Cell: 01712479824, nrbnews24@gmail.com