Space for rent
Tuesday, 20 August, 2019, 8:11 AM
শিল্পকলায় ‘আষাঢ়ের নব আনন্দ’
Published : Saturday, 13 July, 2019 Time : 10:52 PM, Count: 78
A+ A- A
বৈচিত্র্য-ঘেরা বাঙালি সংস্কৃতির বিরাট অংশ জুরে রয়েছে বর্ষাকাল। ষড়ঋতুর গ্রাম বাংলায় বর্ষার সঙ্গে সম্পর্কটা অবিচ্ছেদ্য। বাংলার প্রকৃতি সারা বছর অপেক্ষায় থাকে বর্ষার ঘণমেঘস্নিগ্ধ অম্বর ছায়াতলে কেতকী-কদম-যূথিকা। পুষ্পবাসরে অবিরল প্রেমরস ধারায় সিক্ত নিষিক্ত হতে। নৃত্যপর সখিরা বাজায় মেঘের মৃদঙ্গ আষাঢ়ের নব আনন্দে। জেগে ওঠে জীবন। আর তাইতো বাঙালি গান-কাব্য, সাহিত্য সর্বদা বর্ষাবন্দনা। বর্ষাকে স্বাগত জানিয়ে বর্ষার কিছু প্রাণছোঁয়া গান নিয়ে শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে ‘আষাঢ়ের নব আনন্দ’ আয়োজন করে প্রখ্যাত রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী কলিম শরাফীর হাতে গড়া গানের সংগঠন সংগীত ভবন। দু’টি সমবেত, দু’টি দ্বৈত, দুইটি একক নৃত্য ও ১০টি একক গান দিয়ে সাজানো হয় বর্ষা বিষয়ক মনোমুগ্ধকর আয়োজন ‘আষাঢ়ের নব আনন্দ’।

অনুষ্ঠানের সূচনা হয় সংগীত ভবনের শিল্পীদের সমবেত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে। তারা পরিবেশন করেন ‘বিশ্ববীণারবে বিশ্বজন মোহিছে’ গানটি। এরপর দ্বৈত কণ্ঠে সালেহ মোহাম্মদ খোকন ও নিবেদিতা হালদার পরিবেশন করেন ‘এসো নীপবনে ছায়াবীথি তলে’। রিফাত জামাল মিতু ‘আমার নিশীথরাতের বাদলধারা, এসো হে  গোপনে, আমার স্বপনলোকে দিশাহারা’। সর্ববানী চক্রবর্তী ‘ওগো তুমি  পঞ্চদশী, তুমি  পৌঁছিলে পূর্ণিমাতে’। গোলাম মোস্তফা গাইলেন  ‘আষাঢ় মাইসা ভাসা পানিরে’। এমদাদ  হোসেন ‘আকাশ এতো মেঘলা যেও নাকো একলা’। ‘এসো শ্যামল সুন্দর, আনো তব তাপহরা তৃষাহরা সঙ্গসুধা’ গানের সঙ্গে একক নৃত্য পরিবেশন করে নেওয়াজ মৃন্ময় খুকুমনি। 

নাচের পর আবার গানের পালা। এবার একক গান নিয়ে মঞ্চে আসেন স্বপন কুমার দাস। তিনি গাইলেন ‘মন মোর মেঘের সঙ্গী, উড়ে চলে দিগ্দিগন্তের পানে’। অনেকগুলো একক গানের পর আবার দ্বৈত গানের পালা। এবার মঞ্চে আসেন কনক খান ও খন্দকার জাফর সাদেক পাভেল। তারা দ্বৈত কণ্ঠে গাইলেন ‘এই মেঘলা দিনে একলা’। তাদের দ্বৈত পরিবেশনা শেষে মঞ্চে আসেন সংগীত ভবনের সভাপতি ও কণ্ঠশিল্পী পীযুষ বড়ুয়া। তার কণ্ঠে শোনা গেলো নজরুলগীতি ‘শাওন রাতে যদি স্মরণে আসে মোরে’। তার এই পরিবেশনার পর সুমন চৌধুরী গাইলেন ‘গহন মেঘের ছায়া ঘনায় সে আসে’। মাহমুদ  সেলিম গাইলেন ‘বড় একা লাগে এই আঁধারে’। ‘ধরণীর গগনের মিলনের ছন্দে, বাদলবাতাস মাতে মালতীর গন্ধ’ গানের সঙ্গে আয়োজনের দ্বিতীয় এবং শেষ একক নৃত্য পরিবেশন করেন তাহনীনা ইসলাম। গানের ফাঁকে ফাঁকে বর্ষা বিষয়ক কবিতা আবৃত্তি করেন মৌমিতা জান্নাত। 

অনুষ্ঠানের সূচনাতেই সংগঠনের সভাপতি পীযুষ বড়ুয়ার জন্মদিন উপলক্ষে তাকে সংগীত ভবনের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। আগত দর্শক-শ্রোতাতের স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য রাখেন সংগীত ভবনের সভাপতি পীযূষ বড়ুয়া এবং সচিব আহমদ জিয়াউর রহমান।

প্রখ্যাত রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী কলিম শরাফীর হাত ধরে ৩৫ বছর আগে গানের বিদ্যাপীঠ হিসেবে পথচলা শুরু হয় সংগীত ভবনের। গানের বিদ্যাপীঠের কার্যক্রম গত তিন বছর ধরে সাময়িক বন্ধ থাকলেও থেমে নেই সংগীতায়োজনের।

রিপোর্টঃ চপল মাহমুদ



Editor in Chief: Omar Ali
356, East Rampura, Dhaka-1219, Bangladesh.
Cell: 01712479824, nrbnews24@gmail.com