Space for rent
Tuesday, 20 August, 2019, 8:14 AM
অভিমতঃ যাদুর শহরের যাদুকর কই?
Published : Monday, 29 July, 2019 Time : 10:46 PM, Count: 96
A+ A- A
মোঃ কাইফ ইসলামঃ যখন লিখতে বসেছি একদিকে শহরজুড়ে ডেঙ্গু জ্বরের আতংক অন্য দিকে ঈদে বাড়ি যাবার (বাস/ট্রেনের) টিকেট না পাওয়ার দুঃশ্চিন্তা।

জীবন জীবিকার তাগিদে ঢাকা শহরে বসবাস। ঢাকা শহর... অনেকেই বলে যানযটের শহর,শব্দ আর পরিবেশ দূষণের শহর, অাবর্জনার শহর, তবুও নাকি এই শহরে বাতাসে টাকা উড়ায়,আজব শহর, যাদুর শহর ইত্যাদি ইত্যাদি।

তবে ঢাকা যে যাদুর শহর তাতে কোন সন্দেহ নেই।প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই শহরের সাথে যুক্ত হতে বিভিন্ন জেলা শহর হতে আসছে কিন্তু ফেরত যেতে চায় না,এটাতো যাদুর মহো ছাড়া কিছুই নয়।

ঢাকা দক্ষিণ এশিয়ার একটি রাষ্ট্র বাংলাদেশের রাজধানী ও বৃহত্তম শহর। প্রশাসনিকভাবে এটি দেশটির সকল বিভাগের প্রধান শহর। ভৌগোলিকভাবে এটি বাংলাদেশের মধ্যভাগে বুড়িগঙ্গা নদীর উত্তর তীরে একটি সমতল এলাকাতে অবস্থিত। ঢাকা একটি মেগাশহর বা মেগাসিটি।জনসংখ্যার ঘনত্বের বিচারে ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ শহর। ১৩৪ বর্গমাইল আয়তনের এই শহরে প্রতি বর্গমাইল এলাকায় ১ লক্ষ ১৫ হাজার লোকের বাস। তার সাথে প্রতিদিন নতুন ১ হাজার ৭০০ মানুষ যুক্ত হচ্ছে।

ঢাকায় নাগরিক পরিষেবা প্রদানের জন্য বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠান কাজ করে থাকে। ঢাকা শহরের পানির চাহিদা পূরণের জন্য ঢাকা ওয়াসা, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন বা বিদ্যুৎ সরবরাহ করার জন্য ডেসা এবং ডেসকো, গ্যাস সরবারহ করার জন্য তিতাস গ্যাস প্রভৃতি সেবামূলক সংস্থা নিয়োজিত রয়েছে।

এই সংস্থাগুলো দেখভালের দ্বায়িত্বে রয়েছেন দুই মেয়র অর্থাৎ দুই যাদুকর। প্রয়াত আনিসুল হকের মৃত্যুর পর উপ-নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বর্তমান মেয়র আতিকুল ইসলাম।উত্তর ঢাকার পরিবেশ রক্ষা, পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন,অবৈধ জায়গা দখলমুক্ত করা, সর্বোপরি নগরবাসীর আস্থা অর্জনে যাদুকরী ভুমিকা রেখে গেছেন মেয়র আনিসুল হক। যা আজও সর্বোজন প্রশংসনীয়।আতিকুল ইসলাম তার ধারে কাছেও নেই।অন্যদিকে আর এক যাদুকর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন। নগরবাসী প্রত্যাশা করেছিলো তার প্রয়াত পিতা মেয়র হানিফের মত হবেন তিনি।কিন্তু তা প্রমাণে ব্যার্থ হয়েছেন। নানা অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। 

যাদুকররা এমন কেন? 

যাদুর কাঠির ছোঁয়ায় শহরটিকে পরিপাটি করে গড়ে তোলার দ্বায়িত্ব তো তাদের। ব্যক্তিগতভাবে আমি বা আমার মত অনেকেই তাদের কাছে প্রত্যাশা করি, পৃথিবীর যে কোন উন্নত একটি নগরীর আদলে তাদের স্বপ্নে, তাদের কল্পনায় গড়ে উঠবে প্রাণের শহর - ঢাকা। আর কল্পনা থেকে তাদের সততা, মেধা আর একাগ্রতার হাত ধরে একটু একটু করে পরিবর্তিত হতে থাকবে আমাদের এই প্রিয় শহরটি। যে শহরটি হবে যানযট মুক্ত পরিচ্ছন্ন, মানুষ যেখানে যত্র তত্র গাড়ি পার্ক করবে না। ফুটপাত দখল করে বসবে না হকাররা অথবা রেলস্টেশন অথবা বাসস্ট্যান্ড দখল থাকবে না একটি বিশেষ শ্রেণীর দখলবাজদের হাতে। লঞ্চঘাট হবে আধুনিক সুবিধায় সুসজ্জিত। নাগরিকদের নগরের পরিচ্ছন্নতা, ট্রাফিক আইন এবং শৃঙ্খলা সম্বন্ধে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য তারা গ্রহন করবেন বিশেষ কর্মপরিকল্পনা। 

তবে কি যাদুকরী শক্তি আর কাজ করছে না?

ঢাকার বাতাসে এখন বিশুদ্ধ অক্সিজেনের অভাব। প্রকৃতি থেকে বিদায় নিয়েছে সবুজ। চারদিকে শুধুই অপরিচ্ছন্নতা আর দূষণের ছড়াছড়ি। নদী গুলো এখনও দখলমুক্ত করা গেলো না। এডিস মশার প্রকোপে ডেঙ্গু রোগের ভয়াবহতা।উচ্চ মুল্যে নিম্ন মানের চিকিৎসা সেবা।যানযটে জীবন অতিষ্ঠ। 

স্বাস্থ্যকর পরিবেশ এখানে অতীত। রাজধানী হলো দেশের মূল দর্পণ। সারা দেশের চিত্র ফুটে ওঠে এই শহরের আয়নায়। আমরা ঝাপসা আয়নায় মুখ দেখতে চাই না। যানজটে পড়ে মূল্যবান সময় ও জ্বালানি আর কত নষ্ট হবে। শিশুরা ঢাকার মাটিতে পা রেখেই দূষিত বায়ুতে বিষাক্ত নিঃশ্বাস নিচ্ছে।
ফুটপাথ আছে নামমাত্র। পয়ঃনিষ্কাশনের বালাই নেই। জলাবদ্ধতার কথা বাদি দিলাম। 

দূষিত পরিবেশের সঙ্গে প্রতিনিয়ত আবাল-বৃদ্ধ-বণিতাকে লড়াই করতে হচ্ছে। শিল্পমানেরও বড় অভাব। অগোছাল পরিবেশ জড়িয়ে আছে নগরবাসীর আষ্টেপৃষ্ঠে। দিন আসে দিন যায় ঢাকার চেহারা আরও বিবর্ণ হয়। রাজধানী হিসেবে এই চেহারা থাকার কথা ঝলমলে, উজ্জ্বল, চোখজুড়ানো।

তবে যাই বলি না কেন নগরবাসী হিসেবে আমাদের দায় এড়ানোর কোন সুযোগ নেই।

আমরাই সবচেয়ে অ-সচেতন এবং অ-দ্বায়িত্বশীল। তবে সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে আমরা নোংরা করবো না আমাদের নগরীকে, আমরা নগরের ছোট থেকে বড় প্রতিটি ক্ষেত্রেই আইন কানুন সম্বন্ধে সচেতন থাকবো এবঙ মানতে বাধ্য থাকবো, যেমনটি আমরা বিম্বের অন্য যেকোনো উন্নত নগর ভ্রমণের সময় সচেতন থাকি। 

আর এই বিষয়গুলি সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরা থেকে বাস্তবায়নের অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন আপনারা।
শিক্ষিত,তরুণ আর আধুনিক চিন্তা ধারার দুই মেয়র আমাদের স্বপ্নের শহরের দুই যাদুকর।

লেখকঃ 
মোঃকাইফ ইসলাম
শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।


Editor in Chief: Omar Ali
356, East Rampura, Dhaka-1219, Bangladesh.
Cell: 01712479824, nrbnews24@gmail.com