Space for rent
Tuesday, 20 August, 2019, 8:11 AM
ওদের আনন্দ ‘চামড়া সংগ্রহে’
Published : Monday, 12 August, 2019 Time : 9:28 PM, Count: 73
A+ A- A
আসাদুজ্জামান আসাদ।
বিশেষ প্রতিনিধি, 
এনআরবিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম

ঈদের নতুন জামাকাপড় পরে সবাই যখন আনন্দ উৎসব করে বেড়ান, তখন কিছু লোক বস্তা হাতে গ্রাম থেকে গ্রামে ছুটে বেড়ান কোরবানির চামড়া সংগ্রহের জন্য।

কোরবানির মৌসুমে এই মৌসুমি ক্রেতাদের মানুষ চেনে ‘ফড়িয়া’ হিসাবে। তারা গ্রামে গ্রামে ঘুরে চামড়া কিনে বিক্রি করেন পাইকার অথবা ট্যানারি মালিকদের কাছে। ঈদের দিন ঘরে থেকে পরিবারের সঙ্গে আনন্দ উপভোগের ভাগ্য আর তাদের হয় না।

যশোরের শার্শা উপজেলার বিশিষ্ঠ চামড়া ব্যবসায়ী শেখ সহিদুল ইসলাম জানান, তার এলাকায় চামড়া ব্যবসায়ীর সংখ্যা প্রায় একশ, যারা ফড়িয়ার মাধ্যমে চামড়া সংগ্রহ করে থাকে।

পাঁচ থেকে সাতশ ফড়িয়া কোরবানি ঈদে এই দিনটিতে পশুর চামড়া সংগ্রহ করেন। প্রতিজন চামড়া ব্যবসায়ী পাঁচ থেকে সাত জন ফড়িয়া নিয়োগ করেন। গ্রামান্তরে ঘুরে ঘুরে তারা চামড়া কেনেন ব্যবসায়ীদের জন্য।

শার্শার সামটা গ্রামের ফড়িয়া রবিউল ইসলাম বলেন, “ব্যবসায়ীদের দেওয়া টাকা নিয়ে আমরা বিভিন্ন গ্রাম থেকে কোরবানির পশুর চামড়া কিনি। আমরা তিন জনের গ্রুপ করে এ কাজ করি। যত বেশি দৌড়াব ততবেশি চামড়া পাব।”

তিনি বলেন, “ঈদের কোনো আনন্দ আমাদের নেই। কোরবানির চামড়া সংগ্রহ করে আমাদের ঈদ পার হয়।”

বেনাপোলের চামড়া ব্যবসায়ী বাবর আলি বাবু বলেন, “ঈদ আমাদের একটি বড় উৎসব হলেও ব্যবসার কারণে এই দিনটি আমরা উপভোগ করতে পারি না। আর ফড়িয়াদের কথা তো বাদই দিলাম।”

বছরের এই দিনটিই তাদের আয় রোজগার সবচেয়ে বেশি বলে জানান তিনি।

চামড়া ব্যবসায়ী লিটন সাহাজী বলেন, “উৎসবের এই দিনটিতে পরিবারের সঙ্গে থাকতে না পারায় অবশ্যই খারাপ লাগে। তবে করার কিছুই নেই। বাপ-দাদার ব্যবসা ধরে রাখতে কাজ করে যেতে হচ্ছে।”

জামতলা এলাকার চামড়া ব্যবসায়ী ওসমান আলি সাহাজী জানান, এবার ঈদের চামড়া কেনার জন্য পাঁচ জন ফড়িয়াকে টাকা দিয়েছেন। তার লক্ষ্য এবার ১২শ’ চামড়া সংগ্রহ করা।গত বছর কিনেছিলেন এক হাজার চামড়া।

“আমার মতো সব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীই ঈদের নামাজের পরপরই পাড়া মহল্লায় নেমে পড়ে। অনেক ব্যবসায়ী আছেন যারা পশু জবাইয়ের আগেই চামড়ার দাম দিয়ে দেন। আমি নিজে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ২০০ গরুর চামড়া ও দেড়শ ছাগলের চামড়া কিনেছি।”

কী দামে চামড়া কিনছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকার নির্ধারিত দামের নিচেই তাদের চামড়া কিনতে হয়, কারণ ওই দামে ট্যানারি মালিকরা কিনবেন। তবে সবাই সরকার নির্ধারিত দামেই বেচতে চায়।

প্রতিটি গরুর চামড়া সর্বোচ্চ ২৫ শ’ সর্বনিম্ন ৫শ টাকা দিয়ে কিনেছেন বলে জানান তিনি।

বাগআচড়ার চামড়া ব্যবসায়ী শেখ সহিদুল ইসলাম বলেন, ঈদের দিন সকাল থেকেই পশুর চামড়া বেচাকেনা শুরু হয়। যে ফড়িয়া যত বেশি চামড়া পাবে, ঈদে তার লাভ থাকবে ততো বেশি।

“তাই ফড়িয়াদের কাছে ঈদ মুখ্য বিষয় নয়, চামড়ার সংখ্যা বাড়ানোই মুখ্য।” তিনি বলেন, “আমরা কোরবানির এই চামড়া ফুট মেপে কিনি না। গরুর দাম ৫০ হাজার টাকার উপরে থাকলে ওই চামড়া আমরা দুই থেকে আড়াই হাজার টাকার মধ্যে কিনেছি।

“বিশ থেকে ত্রিশ হাজার টাকার গরু হলে চামড়ার দাম দিয়েছি এক হাজার টাকা এবং এর নিচের দামের গরুর চামড়া কিনেছি ৮০০ টাকায়।”

এবার তিনি সাতশ গরুর চামড়া আর চারশ ছাগল ও ভেড়ার চামড়া কিনেছেন বলে জানান।এছাড়া ফড়িয়াদের কাছ থেকে সব চামড়া পাওয়ার পর পুরো হিসাব পেতে একদিন লেগে যাবে বলে জানান তিনি।


Editor in Chief: Omar Ali
356, East Rampura, Dhaka-1219, Bangladesh.
Cell: 01712479824, nrbnews24@gmail.com