Space for rent
Monday, 16 September, 2019, 7:19 PM
যশোরের নায়ড়া গ্রামে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি কমপ্লেক্স করতে জমি দিতে চান এলাকাবাসী
Published : Tuesday, 10 September, 2019 Time : 3:50 PM, Count: 310
A+ A- A
আসাদুজ্জামান আসাদ, বিশেষ প্রতিনিধি, যশোরের নায়ড়া থেকে ফিরে
> জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার নায়ড়া বাজারে স্মৃতি কমপ্লেক্স ও কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবি তুলেছেন এলাকাবাসী। তারা বলেছেন, সরকার চাইলে সেজন্য জমি লিখে দেবেন। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রচারণায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যশোরের অজোপাড়াগাঁ নায়ড়া গ্রামে সফরে আসেন। 

নায়ড়া গ্রামের বাসিন্দা ৮০ বছরের বৃদ্ধ খোন্দকার জালাল উদ্দিন সেদিন বঙ্গবন্ধুর সাথে ছিলেন। স্মৃতিচারণকালে খোন্দকার জালাল উদ্দিন এনআরবি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ১৯৫৪ সালের ২৭ এপ্রিল বেলা ১১টায় যশোর সাতক্ষীরা মহাসড়কের শার্শা উপজেলার নীলকান্ত মোড়ে পৌছান বঙ্গবন্ধু, সাথে ছিলেন যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী মশিউর রহমান। কাঁচা রাস্তা তাই বঙ্গবন্ধু সামটা গ্রামে তার বহনকারি প্রাইভেট কার রেখে গরুর গাড়িতে উঠেন। দৈনিক সংবাদপত্র প্রেস ফেডারেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নায়ড়া গ্রামের খোন্দকার বজলুর রহমান নীলকান্ত মোড় থেকে গরুরগাড়িতে করে অতিথিদের নিয়ে আসার ব্যবস্থা করেন নায়ড়ায়। এখানে পৌছে বঙ্গবন্ধু দিঘিতে ওজু করে হযরত শাহ সুফি সুলাইমান (র) এর মাজার জিয়ারত করেন। জিয়ারত সেরে মসজিদে জোহরের নামাজ আদায় করেন। দুপুরে খাবারের ব্যবস্থা করেছিলেন খোন্দকার বজলুর রহমান তার বাড়িতে। পরে বিকেলে নায়ড়া বাজারে তিনি এক জনসভায় বক্তব্য রাখেন। এটি এখন স্মৃতির পাতায় ভেসে বেড়ায় নায়ড়া গ্রামবাসির। 

খোন্দকার বজলুর রহমানের ছেলে খোন্দকার জাভেদুর রহমান বলেন, তার বাবার সাথে বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। বজলুর রহমান যখন কলকাতায় থাকতেন তখন বঙ্গবন্ধুও সেখানে যেতেন। একসঙ্গেই থাকতেন। দেশ স্বাধীনের পর খোন্দকার বজলুর রহমান ঢাকায় ইত্তেফাকে চাকরি নেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর একজন ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন।
 
জাভেদ বলেন, নায়ড়া বাজারে আমাদের একটি জমি আছে যেটা আমরা বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের নামে লিখে দিতে চাই। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা রাষ্ট্রিয়ভাবে যদি সহযোগিতা করেন, তবে এখানে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি কমপ্লেক্স ও একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। বঙ্গবন্ধুকে সারা বাংলায় ছড়িয়ে দিতে এবং নায়ড়ায় বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি ধরে রাখার জন্যই এটা করা দরকার। এখানে একটি স্মতি কমপ্লেক্স করা গেলে আগামী প্রজন্মের কাছে বঙ্গবন্ধুর এই স্মৃতি ধরে রাখা সহজ হবে।

স্থাণীয় বাসিন্দা খোন্দকার মুজিবর রহমান বলেন, প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত মানুষ দিঘি ও বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিস্পটটি দেখতে এখানে আসেন। প্রতি শুক্রবার শত শত ভক্ত অনুরাগী আসে হযরত শাহ সুফি সুলাইমান (র) মাজার জিয়ারত করতে। পুরো এলাকাটি ইতোমধ্যে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করা হলে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি কমপ্লেক্সকে ঘিরে কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপনের আগেই তিনি স্মৃতি কমপ্লেক্স নির্মাণের দাবি জানান।

এলাকাবাসী জানান, নায়ড়াতে প্রাইমারি স্কুল, হাইস্কুল ও মাদ্রাসা আছে। নেই কেবল উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তথা কলেজ। ৮ কিলোমিটার দূরে একটি কলেজ আছে। ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার জন্য এখানে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করা  প্রয়োজন। সরকারি ব্যবস্থাপনায় বৃহৎ পরিসরে কারিগরি কলেজ, ভোকেশনাল কলেজ কিংবা কৃষি কলেজ করা হলে আশপাশের জেলা থেকে এমনকী সীমান্তের ওপার থেকেও শিক্ষার্থীরা ভর্তি হবে। এলাকাবাসী এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।  




Editor in Chief: Omar Ali
356, East Rampura, Dhaka-1219, Bangladesh.
Cell: 01712479824, nrbnews24@gmail.com