Space for rent
Wednesday, 13 November, 2019, 7:23 PM
জাতীয় শ্রমিক লীগের সম্মেলনঃ বিতর্কিতদের কী হবে?
Published : Friday, 8 November, 2019 Time : 10:18 PM, Count: 78
A+ A- A
নিজস্ব প্রতিবেদক
> সাত বছর পর শনিবার সকালে জাতীয় শ্রমিকলীগের সম্মেলন। কিন্তু সম্মেলনের পর কী হবে, বিতর্কিতরাই ফের দায়িত্ব পাবে, না কী দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স পলিসি কারণে নতুনদের দায়িত্ব দেয়া হবে। শ্রমিক লীগের কর্মীদের সবার দৃষ্টি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার দিকে। কী প্রক্রিয়ায় নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণ করা হবে। কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি  হবে, না কী নেত্রীর পছন্দে হবে, বলতে পারছেন না শীর্ষ নেতৃবৃন্দ কেউ। রাত পোহালেই সম্মেলন। কে হচ্ছেন পরবর্তী সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক। জানেন না কেউ। কারো মুখে এ নিয়ে কথা নেই। তবে সবার কথা একটাই। বিতর্কিত কেউ যাতে ফের দায়িত্ব না পায়।

জাতীয় শ্রমিক লীগে বিতর্কিত কারা। কী নিয়ে বিতর্ক। কয়েকজনের সাথে আলাপে একে একে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসে। আপাদমস্তক বিতর্কের শেষ নেই। দলীয় পদ পদবী ব্যবহার করে যে যেভাবে পেরেছেন, অনিয়ম আর লুটপাটে সাত বছর ধরে মত্ত ছিলেন। লুটেরাদের রাম রাজত্বে পরিণত হয় লাখো শ্রমিকের স্বার্থ রক্ষায় গঠিত এই সংগঠন।  লুটপাট, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, কমিটি বাণিজ্য করে তারা অনেকেই টাকার পাহাড় গড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। 

জানা যায়, শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কুর মাহামুদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি টাকা না দিলে শাখা কমিটির অনুমোদন দেননা। এছাড়া সাধারণ সম্পাদককে না জানিয়ে কমিটি অনুমোদন, জামায়াত ও বিএনপি’র লোকদের কমিটিতে স্থান করে দেয়া। তিনি কেন্দ্রীয় কমিটিতে সভাপতি হওয়ার পরও নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটিতে সভাপতি রয়েছেন। বয়স ৭০ এর কোটায়। দুইটি সভাপতির পদ নিজের দখলে রেখে নানান কায়দায় সম্পদের পাহাড় গড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। 
 
সাধারণ সম্পাদক মোঃ সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধেও অভিযোগের তালিকা অনেক দীর্ঘ।  প্রায় ১০ বছর আগে জনতা ব্যাংকের চাকরি থেকে অবসরে গেলেও জনতা ব্যাংক সিবিএর উপদেষ্টা পদে এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছেন। ব্যাংকের ২২ তলায় সুসজ্জিত অফিস সাজিয়ে পুরো ব্যাংক নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। নিয়োগ, বদলী ও বড় লোন পাইয়ে দেয়া থেকে শুরু করে সকল কাজেই দলীয় পরিচয়ে নিয়মিত প্রভাব খাটান। যোগ্যতা থাক বা না থাক, শ্রমিক না হলেও টাকা দিলে কমিটি পাস হয়ে যায়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে সংগঠনের প্রতিনিধিদের বিদেশে প্রশিক্ষণ ও সেমিনারে অংশগ্রহনের আমন্ত্রণ এলে তিনি  নিজেই হাজির হন। বিদেশ সফরের সুযোগ সংগঠনের সিনিয়র নেতারা খুব কমই পান।

শ্রমিক লীগের শীর্ষ দুই নেতার পর সহ সভাপতি পদে আরেক নেতা আছেন, তাকে নিয়ে কত বিতর্ক তার হিসেব নেই। তিনি শাজাহান খান এমপি, বর্তমান কমিটিতে সহসভাপতি। ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রী। মন্ত্রী থাকা অবস্থায় দোর্দন্ড প্রতাপ নিয়ে চলেছেন। নিজ দফতরের বাইরে পরিবহন সেক্টর নিয়ে তিনি সারা দেশে আলোচিত। পরিবহন সেক্টরে নৈরাজ্য, অব্যবস্থাপনা, পথে পথে চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।

সরদার মোতাহার উদ্দিন বর্তমান ও পাট কলের নেতা, শারীরিকভাবে খুবই অসুস্থ। থাকেন খুলনায় সংগঠনের কর্মকান্ডে সময় দিতে পারেন না।

এস এম কামরুজ্জমান চুন্নু বর্তমান কমিটির সহসভাপতি পাটকলের নেতা। থাকেন যশোরে জেলা শহরে। গত পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট করার কারণে জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

মোল্যা আবুল কালাম, বর্তমান কমিটির সহসভাপতি ও পানি উন্নয়ন বোর্ড শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের উপদেষ্টা। করতেন বিএনপির শ্রমিক সংগঠন পরে যোগ দেন জাতীয় পার্টির শ্রমিক সংগঠনে। দুই সংগঠনে সুবিধা করতে না পেরে আসেন আওয়ামী লীগের শ্রমিক সংগঠনে। শত শত কোটি টাকার মালিক। দুদকে অভিযোগ তদন্ত চলছে। বয়স ৭০ এর কাছাকাছি।

প্রকৌশলী এজাজুল হক, বর্তমান কমিটির সহসভাপতি। বিটিসিএল এর প্রথম শ্রণির কর্মকর্তা। শ্রমিক না হয়েও শ্রমিক লীগ নেতা। নেই শ্রমিকদের সাথে সম্পর্ক।

মোঃ জহিরুল ইসলাম চৌধুরী, বর্তমান কমিটির সহসভাপতি। বিদুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিবিএ সভাপতি। কর্মচারী হিসাবে অবসরে গেলেও তিনি এখনও সিবিএ নেতা। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে দূর্নীতির মাধ্যমে পাহাড় সমান সম্পদশালী হয়েছেন। দুদকে অভিযোগ তদন্তাধীন।

এ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির বর্তমান কমিটির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক। তিনি বাংলাদেশ রেলওয়ে সিবিএ নেতা। অবসরে গেছেন অনেক আগে। শারীরিকভাবে পঙ্গু। অন্যের সাহায্য ছাড়া চলতে পারে না। তবুও তিনি রেলওয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গার সিবিএ সভাপতি। তার বিরুদ্ধে দুদকে বেশ কয়েকটি অভিযোগের তদন্ত চলছে। তিনি এবার সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী বলে জানা গেছে।

খান সিরাজুল ইসলাম বর্তমান কমিটির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক। এছাড়া তিনি শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশন (বিএসইসি) সিবিএ’র সভাপতি। তিনি নিয়োগ বাণিজ্য, পদোন্নতি, বদলী করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নামে বেনামে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগে দুদকে তদন্ত চলছে। তিনিও এবার সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী।

 
মু শফর আলী, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক। তার কোন বেসিক শ্রমিক ইউনিয়ন নাই। থাকেন চট্টগ্রামে। অভিযোগ রয়েছে চট্টগ্রামে শ্রমিক রাজনীতিকে তিনি বিভাজন করে রেখেছেন। তিনি চট্টগ্রামের মেয়রের সানিধ্যে থেকে ব্যাক্তি সুবিধা নিয়ে সম্পদশালী হয়েছেন।

কে এম আযম খসরু, বর্তমান কমিটির প্রচার সম্পাদক। অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিন্হিত। তিনি ছিলেন জাতীয় পার্টির শ্রমিক সংগঠন সোনালী ব্যাংক কর্মচারী এসোসিয়েশন রেজিঃ ২০৯০ এর সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। আট বছর আগে অবসরে, কেন্দ্রীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার আত্মীয়তার সুবাদে হয়েছেন শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা।

মোঃ আমিনুল ইসলাম, বর্তমান কমিটির দফতর সম্পাদক ও ডিপিডিসির সিবিএ সভাপতি। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি অনুপ্রবেশকারী। তিনি ছিলেন বিএনপির শ্রমিক সংগঠন ঢাকা বিদুৎ বিতরণ কর্তৃপক্ষ শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন রেজিঃ নং ১৭৯৫, এর সাংগঠনিক সম্পাদক। বিএনপি রাজনীতি থেকে রাতারাতি খোলস পাল্টেনো আমিনুল সামান্য মিটার রিডার হয়ে ২ জন গানম্যানসহ নিউ মডেলের প্রাডো গাড়ী (ঢাকা মেট্রো- ঘ ১১-৪৫০৪৭) নিয়ে কিভাবে চলাফেরা করেন। অভিযোগ রয়েছে মিটার রিডার পদে থেকে হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। তার বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ দুদকে তদন্ত হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সুলতান আহমেদ বর্তমান কমিটির অর্থ বিষয়ক সম্পাদক। এছাড়া তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ড সিবিএ সাধারণ সম্পাদক। তার বিরুদ্ধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ ও পাউবোর অবৈধ জমি দখলদারদের শেল্টার দিয়ে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকে অভিযোগ তদন্ততাধীন।

এ টি এম ফজলুল হক, ক্র্যাফট ফেডারেশন বিষয়ক সম্পাদক। বন শিল্পের সিবিএ নেতা। শুরুটা বিএনপি পরে জাতীয় পার্টির শ্রমিক সংগঠন , সরকার বদলের পর পর দল পাল্টিয়ে এখন আওয়ামী লীগের শ্রমিক সংগঠনে। ২০১০ সালে আওয়ামী লীগে এসেই ২০১২ সালে এক লাফে কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদকীয় পদে। 

কাউসার আহমেদ পলাশ, শ্রমিক উন্নয়ন ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক। কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদকীয় পদে থেকেও নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকার শ্রমিক লীগ আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি। পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজি থেকে শুরু করে বাড়ি দখল এমন কোন অবৈধ কাজ নেই যা সে করেনা। তার কর্মকান্ডে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ বলে জানা গেছে।

জাতীয় শ্রমিক লীগের ৩৫ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই অনেক অভিযোগ। সাত বছর ধরে কাউন্সিল না হওয়ায় বিতর্কিত নেতাদের বিষয়ে মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের কিছু করার ছিলনা। এখন তারা কাউন্সিল অধিবেশনের অপেক্ষায় আছে। সংগঠনের নেতৃত্বে তারা চায় নতুন মুখ। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা নতুন নেতা নির্ধারণ করবেন, না কী কর্মীদের তথা কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে শ্রমিক লীগের শীর্ষ পদে রদবদল হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।


Editor in Chief: Omar Ali
356, East Rampura, Dhaka-1219, Bangladesh.
Cell: 01712479824, nrbnews24@gmail.com